যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এটি পরিষ্কার না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইইউ কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে ট্রাম্প এই শুল্কনীতি ব্যবহার করছিলেন। এর অংশ হিসেবে গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ১৫ শতাংশ শুল্ক হারের একটি চুক্তি হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওই শুল্কের বিকল্প হিসেবে ট্রাম্প দ্রুত নতুন পদক্ষেপ নেন। আদালতের রায়ের বাইরে থাকা ভিন্ন একটি ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। নতুন এই শুল্ক আগের শুল্কের সঙ্গে যোগ হবে। ফলে ইউরোপের অনেক উৎপাদনকারীর জন্য মোট শুল্কের হার চুক্তিতে উল্লেখিত ১৫ শতাংশের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জার্মান সদস্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বার্নড ল্যাঞ্জ সোমবার বলেন, ‘পুরনো চুক্তিতে ১৫ শতাংশ শুল্কের কথা থাকলেও এখন অনেক পণ্যে শুল্ক তার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ল্যাঞ্জের কমিটির মঙ্গলবার ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সেই ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
ল্যাঞ্জ উদাহরণ দিয়ে বলেন, গত বছরের চুক্তির আগে পারমিজান ও ক্যামেম্বার্ট পনির আমদানিতে মার্কিন আমদানিকারকেরা ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতেন। চুক্তির পরও শুল্ক ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন আগের হারের সঙ্গে নতুন ১৫ শতাংশ যোগ হওয়ায় মোট শুল্ক প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছাবে।
ল্যাঞ্জ আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সামনে কী করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শুল্ক ১৫ শতাংশে রাখতে ট্রাম্প যে আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করছেন, তার মেয়াদ ১৫০ দিন। এরপর মেয়াদ বাড়াতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত। ভবিষ্যতে আরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।’
ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বাণিজ্য চুক্তি মেনে চলতে চান। ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, চুক্তির প্রতি ‘পূর্ণ শ্রদ্ধা’ বজায় রাখাই ‘সর্বপ্রধান’ বিষয়।
ইইউর নির্বাহী শাখার প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন গত বছর স্কটল্যান্ডের টার্নবেরিতে ট্রাম্পের গলফ কোর্সে এক বৈঠকে এই খসড়া চুক্তি করেন।
ইউরোপে এই চুক্তি জনপ্রিয় ছিল না। শুরু থেকেই অনেকে এটিকে ভারসাম্যহীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে সমালোচনা করেছিলেন।
তবে অনেক নীতিনির্ধারক মনে করেছিলেন, সম্ভবত এটিই ছিল তাদের পক্ষে সবচেয়ে ভালো চুক্তি। এতে অধিকাংশ পণ্যে শুল্ক ১৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল এবং ইউরোপ তাদের ডিজিটাল পরিষেবা–সংক্রান্ত নিয়ম অপরিবর্তিত রাখতে পেরেছিল।
এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, সামনে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ শুল্ক বজায় রাখতে তারা ডিজিটাল প্রবিধানসহ অন্যান্য বিষয়কে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে জাতীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ‘কোনো কারসাজি’ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যেসব দেশ এমনটা করবে, তারা সম্প্রতি সম্মত হওয়া হারের চেয়েও ‘অনেক বেশি এবং খারাপ শুল্কের’ মুখে পড়বে।







