চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ৪ হাজার ২৭৭ কোটি ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। এর মধ্যে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি হয়েছে ১২১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। এ সময়ে এলসি খোলার হার মূলধনি যন্ত্রপাতিতেই সবচেয়ে বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি বৃদ্ধি সাধারণভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত করে। তবে এখনকার এই এলসি বৃদ্ধি যে বিনিয়োগ বৃদ্ধিজনিত না, তা বোঝা যায়। কেননা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এযাবৎকালের মধ্যে যা সর্বনিম্ন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি প্রায় ৩৪ শতাংশ কমে ১০০ কোটি ডলারে নেমেছিল। তার আগের অর্থবছর সামান্য বাড়লেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬৬ শতাংশের মতো কমেছিল। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরের সাত মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি হয়েছিল ৩৯০ কোটি ডলারের। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কারখানা সংস্কারের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি হয়েছে। তৃতীয়ত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার পর অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগ্রহী হয়েছেন। এ ছাড়া ডলার সংকট কেটে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার কারণেও অনেকে এলসি খুলছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা হয়েছে ৪৩২ কোটি ডলারের, যা অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। তবে শিল্পে ব্যবহৃত পণ্যের এলসি ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ২৪৮ কোটি ডলারে নেমেছে। পেট্রোলিয়ামের এলসি ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়ে ৪৯৫ কোটি ডলার হয়েছে। আর শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের এলসি ২ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৬৯ কোটি ডলারে নেমেছে। তবে অন্যান্য পণ্যের এলসি ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫১১ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচিত সরকার আসায় এখন বিনিয়োগ চাহিদা বাড়বে। তবে একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়া, আরেকদিকে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে পারার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পাচারে কড়াকড়ি অবস্থান বজায় রাখা এবং প্রবাসী রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। আশার বিষয় হলো, এরই মধ্যে চীনের বড় কিছু বিনিয়োগ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা চলছে। এটি কার্যকর হলে ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডলারের দর দীর্ঘদিন ধরে ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রাখতে মূল ভূমিকা রেখেছে রেমিট্যান্স। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে চলতি অর্থবছর বাইরে থেকে ৫৩৮ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানের এ রিজার্ভ গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়লে রিজার্ভ বৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখা যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রদা/ডিও







