চট্টগ্রামে সিটি ব্যাংক পিএলসি-র আগ্রাবাদ কর্পোরেট ডিভিশনে প্রায় ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এক চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকের বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের এক সিনিয়র কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। তার সঙ্গে আরও তিনজন ব্যক্তি যোগসাজশে এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম দুদকের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চট্টগ্রামের স্বনামধন্য পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফোর এইচ গ্রুপ-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রসিদ) তৈরি করে অর্থ সরানো হয়। আসামিরা ভুয়া নথি ব্যবহার করে একাধিক এফডিআর খোলা ও ভাঙানোর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেন। পাশাপাশি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ নিজেদের ও স্বজনদের বিভিন্ন হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ধাপে ধাপে এ অনিয়ম সংঘটিত হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মসাতের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার ৯০০ টাকা, তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দুদক। প্রয়োজনে নতুন আসামি সংযুক্ত করার কথাও জানানো হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের আমানত ফেরতের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় ব্যাংকিং খাতে গ্রাহক আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
প্রদা/ডিও







