সংসদীয় দলের প্রথম সভায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কোনো সংসদ সদস্য (এমপি) শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা নেবেন না এবং সরকারি কোনো প্লটও গ্রহণ করবেন না।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত এমপিদের শপথের পর জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় দলের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিএনপির এমপিদের কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারিভাবে কোনো প্লট নেবেন না।
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বড় ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাঁরা জানিয়েছেন যে, সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং একই সঙ্গে তাঁরা কোনো সরকারি প্লটও নেবেন না। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতায় ফিরতে যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের এমন কঠোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক নতুন বারতা পৌঁছে দিয়েছে।
সংসদের জন্য বরাদ্দকৃত শুল্কমুক্ত গাড়ি ও রাজউকের প্লট দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে একটি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছিল। নতুন এই সংসদ সদস্যরা মনে করছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকায় কোনো প্রকার অতিরিক্ত বিলাসিতা তাঁরা গ্রহণ করবেন না। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের অঙ্গীকার থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ত্যাগের মাধ্যমে তাঁরা রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া জোটগতভাবে তাঁদের আসন সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন। এছাড়াও ছোট কয়েকটি দল ৪টি আসনে জয়লাভ করেছে। নির্বাচনের এই বিশাল ম্যান্ডেটের পর প্রথম দিনেই এমন জনমুখী সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বিএনপির শাসনতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও কৃচ্ছ্রসাধনের নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।







