বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচিত সরকারকে ঘিরে বাংলাদেশের মানুষ যেমন নতুন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে, তেমনি কলকাতার মিনি বাংলাদেশ বলে পরিচিত নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরাও আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তাদের আশা এবার হয়তো মরা গাঙে বান আসবে, ব্যবসায় গতি আসবে, দুইদেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত বাড়বে এবং ভিসার সরলীকরণ হবে।
নির্বাচনে বিএনপির জয় সুস্পষ্ট হতেই গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এমনকি তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রমজানের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা।
কলকাতার নিউমার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিটসহ আশপাশের এলাকায় হোটেল, গেস্টহাউস, মানি এক্সচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সি ও খুচরা ব্যবসার বড় অংশই নির্ভরশীল বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, একসময় এলাকাজুড়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্রেতাই ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক। কিন্তু গত দেড় বছরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ভিসা জটিলতার কারণে সেই চেনা ভিড় প্রায় উধাও হয়ে যায়। ফলে বহু প্রতিষ্ঠানে নেমে আসে ধস, কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হন।
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ব্যবসায়ী সমিতির একাধিক প্রতিনিধি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার আসায় দুই দেশের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে তারা আশা করছেন। তাদের মতে, ভারত ও বাংলাদেশ পরস্পর নির্ভরশীল—সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলে বাণিজ্য ও পর্যটন স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে।
মারকুইস স্ট্রিটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল-সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার কথায়, হারানো আস্থা ও যোগাযোগ ফিরে এলে চিকিৎসা ও পর্যটন—দুই খাতই চাঙ্গা হবে। পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরাও চান দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হোক, যাতে আগের মতো বাংলাদেশি পর্যটকেরা কলকাতামুখী হন।
ব্যবসায়ীদের সামগ্রিক প্রত্যাশা—নতুন সরকার ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেবে, ভিসা জটিলতার সমাধান করবে এবং দুই দেশের মানুষের চলাচল বাড়াবে। তবেই ‘মিনি বাংলাদেশ’খ্যাত নিউমার্কেট এলাকায় আবারও ফিরবে পুরোনো ব্যস্ততা ও প্রাণচাঞ্চল্য।
প্রদা/ডিও







