সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা এবং বিশেষ করে অর্থমন্ত্রীর পদ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা–কল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হলো অর্থমন্ত্রীর পদ। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের শপথ এবং সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে; এ অবস্থায় অর্থনীতির চাকা সচল করতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রীর সম্ভাব্য নাম হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের প্রভাবশালী নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি অতীতে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ে অভিজ্ঞতার কারণে তাকেই অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে। এক অনুষ্ঠানে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়।
অন্যদিকে আলোচনায় আছেন হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া। তিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া-র পুত্র। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এ কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন দেশের সরকারে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলীয় মনোনয়নে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন তিনি।
শিক্ষাজীবনে রেজা কিবরিয়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে অর্থনীতিতে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। পাপুয়া নিউগিনি ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে সামষ্টিক অর্থনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তাই এমন একজন অর্থমন্ত্রীর প্রয়োজন, যিনি দেশের আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম।
তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব—দলীয় অভিজ্ঞ রাজনীতিক, নাকি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করা কোনো অর্থনীতিবিদ—সেই সিদ্ধান্তই এখন রাজনৈতিক মহলের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।







