২২ গজের মাঠ কাঁপানো বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ড্যাশিং ওপেনার ও সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল এবার যোগ দিতে পারেন নতুন দায়িত্বে। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এই বাঁহাতি ওপেনারকে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিএনপি জোট সরকার চাচ্ছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গন পরিচালনার দায়িত্বে এমন কাউকে আনতে যারা মাঠের লড়াই থেকে উঠে এসেছেন এবং দেশকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আরও জানা যায়, টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করার যে পরিকল্পনা চলছে, তার মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক কাজের সাথে মাঠের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো।
সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে এবং তার পরপরই এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তামিম ইকবালকে আনার সম্ভাবনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
২০০৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তামিম ইকবালের অভিষেক হয়। তবে ক্রিকেট বিশ্ব তাকে প্রথম বড়ভাবে চেনে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তার বিধ্বংসী ফিফটির মাধ্যমে।
সেই তরুণ ওপেনার সময়ের সাথে সাথে পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ডে। তার নির্ভীক মানসিকতা এবং শুরুর ওভারগুলোতে বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ দলকে অনেক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।
তামিম ইকবাল বাংলাদেশের হয়ে তিনটি ফরম্যাটেই সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি দেশের প্রথম এবং একমাত্র ব্যাটার হিসেবে ৮ হাজর রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। ২৪৩ ম্যাচে তিনি ৮,৩৫৭ রান করেছেন, যার মধ্যে আছে ১৪টি সেঞ্চুরি—যা দেশের সর্বোচ্চ।
এ ছাড়াও টেস্ট ক্রিকেটে ৭০ ম্যাচে ৫,১৩৪ রান নিয়ে তিনি তালিকার ওপরের দিকে আছেন, যার মধ্যে আছে ১০টি শতক এবং একটি দ্বিশতক (২০৬ রান, পাকিস্তানের বিপক্ষে)। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও তিনি ছিলেন অনন্য।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বেও তামিম সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২০ সালে ওয়ানডে দলের স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি দলকে একটি নতুন রূপ দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ানডে ফরম্যাটে দারুণ ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করে।
বিশেষ করে ঘরের মাঠে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে জয় এবং তার নেতৃত্বাধীন সময়ে বাংলাদেশ দলের জয়ের হার তাকে দেশের অন্যতম সফল অধিনায়কের আসনে বসিয়েছে। ওয়ানডেতে ৩৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ২১টি ম্যাচে জয় পেয়েছেন।
নানা বিতর্ক ও ইনজুরির সাথে লড়াই করে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন এই কিংবদন্তি ওপেনার (টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০২২ সালে)।







