বন্দরের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ছিল না। ছিল না কোনো আলোচনায়। তবুও নতুন আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ বছরের জন্য ১০ দশমিক ৬৬ একর জমি ইজারা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৬৬ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই।
এই ইজারার প্রথম দুই বছর দেওয়া হয়েছে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে রেয়াতি সুবিধা। জায়গাটি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্দরের সম্ভাব্য সংকটকেও আমলে নেওয়া হয়নি। জায়গা বরাদ্দ পেলেও ইজারাগ্রহীতা ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকস লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি এখনো কাজ শুরু করেনি। অভিযোগ উঠেছে- বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে বন্দরের ভবিষ্যৎ হুমকিও বিবেচনায় না রেখে টেন্ডার ছাড়া উল্টো ভাড়া রেয়াতি সুবিধায় জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়।
জমিটি ইজারা দেওয়ার সময় বন্দরের সম্ভাব্য সংকট, ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও আইনগত পরামর্শ নেওয়া হয়নি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রথম ৭ একর জমি ২০২৫ সালের ৪ মার্চ ইজারা দেওয়া হয় এবং পরে ৩ দশমিক ৬৬ একরের জমি ২৪ জুন বরাদ্দ করা হয়। নতুন জমির বরাদ্দে নদীর মুখের অবস্থান মিলিয়ে ২৬০ মিটার হলেও, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের ড্রেজিং কার্যক্রম ও আউটারবার এলাকার নাব্য রক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত জমির সঙ্গে সংযোগ থাকায় ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক (এস্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন নথি উপস্থাপনের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য দিতে অস্বীকার করেন। বন্দরের মুখপাত্র ও পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানান, জমিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। তবে দুই বছরের রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি নথি দেখা ছাড়া প্রকাশ করতে চাননি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবীর চৌধুরী অভিযোগ করেন, টেন্ডারবিহীন জমি বরাদ্দে বড় আর্থিক সুবিধা দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের জায়গা বরাদ্দ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে, এতে জবাবদিহি থাকে না।”
টেন্ডারবিহীন জমি বরাদ্দের পাশাপাশি ট্রান্সমেরিন লজিস্টিকসের টার্মিনাল নির্মাণ এখনও শুরু হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ইকবাল আলী শিমুল বলেন, “আমাকে আগের টেন্ডারের আওতায় পরের জমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী আমাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হচ্ছে, তবে অন্যান্য টার্মিনালের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড ও শর্ত ভিন্ন।”
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “সবকিছু নিয়ম মেনে হচ্ছে। গণমাধ্যমে ভুল রিপোর্ট আসছে।” এরপর তিনি দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি জমি ইজারা ও রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার কারণে বন্দর আয় বৃদ্ধি হলেও ভবিষ্যতে কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিও করছে।







