ক্রেতা স্বল্পতায় সম্প্রতি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার এক সময়ের অভিজাত বিপণিবিতান কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষ দিকে চালু হওয়া অভিজাত এ বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে ভিড় জমাতেন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরা।
রাজধানীর অভিজাত ও পুরনো অন্তত ১০টি শপিং মলে ক্রেতার আনাগোনা কম দেখা গেছে। এমনকি ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ লোকসানের কথাও তুলে ধরেন বিপণিবিতানের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
ক্রেতাশূন্য শপিং মলের প্রায় সব দোকান ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী
ক্রেতা স্বল্পতায় সম্প্রতি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকার এক সময়ের অভিজাত বিপণিবিতান কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স। রাজধানীর কাকরাইলে গত শতাব্দীর শেষ দিকে চালু হওয়া অভিজাত এ বিপণিবিতানে জামা, জুতা, প্রসাধনী, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে ভিড় জমাতেন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরা। সময়ের ব্যবধানে নানা কারণে ক্রেতা হারাতে থাকা শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বেচাকেনা এতটাই কমে গিয়েছিল যে দোকান মালিকরা এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
রাজধানীর আরেক অভিজাত বিপণিবিতান ইস্টার্ন মল্লিকা শপিং কমপ্লেক্স। এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত এ বিপণিবিতান পোশাক ও শাড়ির সমাহার, বিয়ে ও প্রসাধনী সামগ্রী এবং সহজলভ্য দামের কারণে ক্রেতাদের আকর্ষণ করত। সেখানেও ক্রেতাদের সমাগম আগের তুলনায় অনেক কম। আগের মতো নেই ভিড়ভাট্টা, ক্রেতাদের সমাগম। এর অন্যতম কারণ মার্কেট খোলা রাখার সময়সীমা কমিয়ে আনা।
রাজধানীর মৌচাক ও শান্তিনগর এলাকার শপিং মলগুলোয় এখন ক্রেতার আকাল। একসময় ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকা এসব বিপণিবিতানের বিস্তীর্ণ করিডোর এখন প্রায় ফাঁকা। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) আধুনিক শপিং মল থেকে শুরু করে পুরনো মার্কেট সর্বত্রই বেচাকেনায় মন্দা। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে নিত্যপণ্য কেনাই কঠিন হয়ে পড়ায় পোশাক, প্রসাধনী ও জুতার মতো পণ্যে ক্রেতারা ব্যয় কমিয়েছেন বলে জানান শপিং মলের দোকানিরা। এতে বিক্রি কমার পাশাপাশি দোকান ভাড়া ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মৌচাক এলাকার ফরচুন শপিং। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে শপিং মল ঘুরে দেখা গেছে, পোশাক ও জুতার দোকানগুলোয় ক্রেতা নেই বললেই চলে। বিক্রয় কর্মীদের কেউ মোবাইল ফোনে, কেউ গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন।
ফরচুন শপিং মলের জুতার দোকানের একজন বিক্রয় কর্মী জানান, আগে মাসে ৩-৫ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হলেও এখন তা অর্ধেকের নিচে নেমেছে। কোনো কোনো দিন বিক্রির খাতাই খোলা যায় না।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি
একসময় সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকত রাজধানীর হাতিরঝিলসংলগ্ন গুলশানের পুলিশ প্লাজা কনকর্ড। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারকে কেন্দ্র করে বিক্রি ছিল অন্য দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে সে দৃশ্য এখন আর নেই। সেখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ বছর আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতি কভিড সময়ের চেয়ে খারাপ বলে জানান ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ।
গতকাল বিপণিবিতানটি ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ফ্লোরে দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। পোশাক, জুতা ও ফ্যাশনসামগ্রীর দোকানগুলোয় নানা ধরনের মূল্যছাড় ও অফার চললেও দুই-একজনের বেশি ক্রেতা দেখা যায়নি।
পুলিশ প্লাজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও এখন কেনাকাটার চেয়ে ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের জন্যই বেশি মানুষ মার্কেটে আসছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, পণ্যের বাড়তি দাম এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বেচাকেনায়।
শপিং মলে ক্রেতা কমে যাওয়ার ভিন্ন কথাও জানিয়েছেন ক্রেতাদের অনেকেই। সরাসরি বিপণিবিতানে গিয়ে কেনাকাটার পাশাপাশি অনলাইননির্ভরতা বাড়াই এ পরিস্থিতির বড় কারণ বলে মনে করেন তারা। পুলিশ প্লাজায় কেনাকাটা করতে আসা নুসরাত জাহান জানান, অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন পণ্যের দাম ও অফার বেশি থাকায় অনেকে এখন সরাসরি শপিং মলগুলোতে আসেন না। সে কারণে আগের মতো এখন আর ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় না।
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা মিরপুর-১০। কয়েকদিন আগেও এখানকার শপিং মল ঘিরে ফুটপাতের বাজার ছিল জমজমাট। সিটি করপোরেশন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করায় সেখানকার ক্রেতাদের মার্কেটমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ফ্যাশন-ফ্যাব্রিক, ক্রোকারিজ, জুয়েলারিসহ প্রায় সব ধরনের দোকানেই ক্রেতা সংকট দেখা যাচ্ছে।







