উচ্চ আদালত থেকে জামিনের সুস্পষ্ট আদেশ এসেছে, নিম্ন আদালতে জামিননামাজমাও হয়েছে যথানিয়মে। গত বুধবার দুপুর ১২টায় সেই জামিননামার কপি সরাসরি হাতে পায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কারাগারের লোহার ফটক খোলেনি এক হাজতির জন্য। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন মুক্তি পেলেন না তিনি?
বিচার ব্যবস্থার এই আদেশের তোয়াক্কা না করার অভিযোগে এবার চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেনের কাছে লিখিত জবাব চেয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সরাসরি এ শোকজ নোটিশ জারি করেন।
আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে সিনিয়র জেল সুপারকে আদালতের সমক্ষে উপস্থিত হয়ে লিখিত কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
কারাগারে আটকে থাকা ওই হাজতির নাম ইলিয়াছ হোসেন (২৫)। তিনি নগরের চকবাজার থানার ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার মো. ইদ্রিসের ছেলে এবং ওমর গণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ ঘোষিত) সাধারণ সম্পাদক।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত ৬ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেই থেকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।
মামলার বিবরণ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহর বরাতে জানা যায়, নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মিস মামলা মূলে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান ইলিয়াছ।
নিম্ন আদালতের সব প্রক্রিয়া শেষ করে গত বুধবার দুপুর ১২টায় জামিননামা পৌঁছে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশ কার্যকর করতে অনীহা বা অবহেলা দেখায় কারা প্রশাসন।
আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইলিয়াছ হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে নতুন কোনো প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পি-ডব্লিউ) কিংবা আগের কোনো মামলার কাস্টডি ওয়ারেন্ট (সি-ডব্লিউ) জারি নেই।
আইন অনুযায়ী জামিননামা পৌঁছানোর পরপরই তার মুক্তি পাওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও আদালতের আদেশকে প্রকাশ্যে অমান্য করে তাকে আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের স্পষ্ট পরিপন্থি।
আইনগত এই চরম গাফিলতি ও শোকজের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন অবশ্য দায় এড়ানোর সুরেই গণমাধ্যমে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, গত বুধবারই আমাদের চট্টগ্রাম কারাগার থেকে দুই শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে সাধারণ একজন হাজতিকে আটকে রেখে আমাদের কোনো স্বার্থ থাকার কথা নয়।সূত্র-ডিপি
নিশ্চয়ই ইলিয়াছের নথিপত্রে কোনো প্রযুক্তিগত বা প্রক্রিয়াগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আদালত শোকজ করেছেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এর লিখিত ব্যাখ্যা দেব। আর যদি আমাদের কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে আদালতের কাছে নিশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করব।
আদালতের আদেশ সত্ত্বেও আসামিকে আটকে রাখার এই নজিরবিহীন ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দুই দিনের মধ্যে জেল সুপারের জবাবে কী ব্যাখ্যা আসে, আর আদালত কী পদক্ষেপ নেন-এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল।







