এলসির পাশাপাশি এখন থেকে কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির (সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্ট) মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকরা। পাশাপাশি ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ, ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধানসহ ব্যবসা ও বিনিয়োগে বেশ কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নতুন আমদানি নীতির গেজেট প্রকাশ করেছে
নতুন নীতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ব্যবস্থাকে সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং শিল্পের কাঁচামাল সহজলভ্য করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
আগের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪-এ এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ ছিল। তবে পণ্য ও খাতভেদে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যসীমা ও বিভিন্ন শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন নীতিতে সেই মূল্যসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এলসির পাশাপাশি সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই আমদানির সুযোগ তৈরি হলো।
নতুন নীতিতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস ও পুনঃরপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
নতুন আমদানি নীতিতে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এ ধরনের মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, নতুন নীতির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসা সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচর্চার সঙ্গে দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১-২০২৪ মেয়াদের আমদানি নীতির কার্যকারিতা ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। এরপর নতুন আমদানি নীতি জারি না হওয়া পর্যন্ত আগের নীতিই কার্যকর ছিল। প্রায় দুই বছর পর নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি করল সরকার।






