তিনি আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের নীতির অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহ ও কার্যক্রম শুরু হবে। একযোগে সারাদেশে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, চার বছরের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নারীদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছানোর গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নারী সদস্যরা এ অর্থ শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটিরশিল্প, সেলাই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে ব্যয় করলে তা নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ৫৬টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও তা সংশোধন করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা হয়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও নতুন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। বাস্তবায়নের সময় নতুন কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবেন সরকারি কর্মকর্তারা; কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি এ কাজে যুক্ত থাকবেন না। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওর নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের তত্ত্বাবধানে পৃথক কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়েও একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি রয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ব্যক্তি একাধিক ভাতা বা সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, প্রথম পর্যায়ে সারা দেশের তথ্য সংগ্রহ শেষে প্রতি মাসে তা হালনাগাদ করা হবে। ফলে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা অন্য যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত তথ্যভান্ডারে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, কর্মসূচির নীতিমালা, প্রশ্নপত্র, যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ডসহ সব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচির প্রভাব মূল্যায়নে অর্থ বিভাগ, আইএমইডি এবং দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে স্বাধীন গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এক্ষেত্রে কার্যকর মূল্যায়নের জন্য অন্তত ছয় মাস সময় প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের মতামত রয়েছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির কোথাও কোনো অনিয়ম বা দুর্বলতা তুলে ধরা হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।







