চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার গতিতে কিছুটা ধীরভাব দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭,৪৬৯ কোটি টাকা। এই পরিমাণটি এই সময়ের জন্য নির্ধারিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১,৮৬৪ কোটি টাকা কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের শুরুতেই ঋণের এই নিয়ন্ত্রিত রূপ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
বাজেট লক্ষ্যমাত্রা ও বর্তমান চিত্র
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে মোট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার নিট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই অনুযায়ী অর্থবছরের প্রথম মাসে ঋণ গ্রহণের যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ নিয়ন্ত্রিত। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিকে রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩০,৫৭১ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল। তবে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসে সেই চাপ অনেকটাই কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেন এই ঋণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি?
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের খরচ এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন হয়। তবে জুলাই মাসে সরকারের খরচ কিছুটা সংকোচন করা এবং রাজস্ব আদায়ের প্রাথমিক চেষ্টা সচল থাকার কারণে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়নি।
বেসরকারি খাতে স্বস্তির আভাস
সরকার ব্যাংক থেকে কম ঋণ নিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তহবিল বা তারল্য বজায় থাকে। এর ফলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণ পাওয়া সহজ হয়, যা দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।







