হলুদাভ রঙ, টসটসে শাঁস, মিষ্টি স্বাদের সঙ্গে হালকা কষভাবের কারণে বর্ষাকালে কাঁচা খেজুরের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ে। কয়েক বছর আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর থেকে বিমানযোগে আমদানি হওয়ায় উচ্চ পরিবহন ব্যয় এবং শুল্কের কারণে এই ফলের দাম ছিল তুলনামূলক বেশি।
বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্থলবন্দর হয়ে ট্রাকে কাঁচা খেজুর বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এতে পরিবহন খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপর দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে দ্রুত খুচরা পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে এই ফল।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ফলের পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকেই কাঁচা খেজুর বোঝাই ট্রাক আসতে দেখা যায়। সেখান থেকে কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রামের এই বাজারেই প্রতিদিন ৯ থেকে ১০ হাজার কেস কাঁচা খেজুর বিক্রি হয়। এতে দৈনিক লেনদেন প্রায় দেড় কোটি টাকায় পৌঁছায়। মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি ট্রাক বাজারে আসে। তবে কোনো দিন ট্রাকের সংখ্যা কম হলে প্রতি কেসে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যায়।
বর্তমানে মানভেদে ১০ কেজির প্রতি কেস কাঁচা খেজুর ১ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হলেও মানভেদে কোথাও কোথাও দাম কিছুটা বেশি।
চট্টগ্রামের কদমতলীর বাসিন্দা ইশমাম উদ্দিন জানান, প্রতিবছরই তিনি কাঁচা খেজুর কিনে থাকেন। তার ভাষায়, মিষ্টি ও হালকা কষভাবের অনন্য স্বাদের কারণে পরিবারের সবাই এই ফল পছন্দ করেন। চলতি মৌসুমে তিনি প্রতি কেজি ২৮০ টাকা দরে দুই কেজি খেজুর কিনেছেন এবং মৌসুম শেষ হওয়ার আগে আরও কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব কলোনি এলাকার ফল বিক্রেতা মো. আবুল কালাম বলেন, পাইকারি বাজার থেকে ১০ কেজির দুটি কেস কিনে খুব দ্রুত বিক্রি করে ফেলেছেন। প্রতিদিনই ক্রেতারা কাঁচা খেজুর খুঁজছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহ চাহিদা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা করছেন।
হবিগঞ্জের ফল ব্যবসায়ী শুক্কুর মিয়া জানান, নিজ এলাকার বাজারে বিক্রির জন্য তিনি চার কেস কাঁচা খেজুর কিনেছেন। স্থানীয় বাজারেও এই ফলের চাহিদা বাড়ছে। বিক্রি ভালো হলে আরও চালান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
খাতুনগঞ্জ ফল বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, তার দোকান থেকেই প্রতিদিন প্রায় ১০০ কেস কাঁচা খেজুর বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খুচরা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে খেজুর সংগ্রহ করেন।
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, ভারত হয়ে স্থলপথে আমদানি শুরু হওয়ায় কাঁচা খেজুর এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে এসেছে। আগে বিমানভাড়া ও কাস্টমস শুল্ক মিলিয়ে প্রতি কেজিতে আমদানি ব্যয় ৫০০ টাকারও বেশি পড়ত। বর্তমানে পরিবহন ব্যয় কমে যাওয়ায় একই মানের খেজুর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে কাঁচা খেজুর বাজারে আসা শুরু হয়েছে এবং সাধারণত আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। বেনাপোল, সোনামসজিদ, বুড়িমারী ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশের পর ট্রাকে করে চট্টগ্রামে আনা হয় এবং সেখান থেকে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।







