গত ১৯ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম চীনের একটি বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সাতটি স্যাটেলাইট বহনকারী একটি রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের বিকল্প গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় চীন সাম্প্রতিক সময়ে নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ জোরদার করেছে। ছবি: ইপি
নিজস্ব ‘স্টারলিংক’-এর প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি করতে দ্রুত বাণিজ্যিক নিম্ন-কক্ষপথ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে চীন। এ লক্ষ্যে দেশটি প্রকল্পটিকে আরও গতিশীল করতে চাইছে।
গত বুধবার দেশটির শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (এমআইআইটি) একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করার জন্য উৎসাহিত করা হবে।
এই নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, টেলিযোগাযোগ অপারেটররা যেন নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভয়েস এবং টেক্সট মেসেজিংয়ের বাইরেও উচ্চ-গতির ডেটা পরিষেবা প্রসারিত করে। এর মাধ্যমে ভূমি-ভিত্তিক এবং মহাকাশ-ভিত্তিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ইলন মাস্কের স্টারলিংকের নিজস্ব সংস্করণ তৈরির প্রচেষ্টায় বর্তমানে চীনে দুটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালে বেইজিং স্যাটেলাইট যোগাযোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান খাত হিসেবে চিহ্নিত করে এই শিল্পের উন্নয়নে গতি আনতে বিপুল তহবিল ও নীতি সহায়তা দিয়ে আসছে।
গবেষণা সংস্থা ওমদিয়ার জুলাই মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যন্ত অঞ্চল বা মহাসাগরে ইন্টারনেট-অব-থিংস (আইওটি) ডিভাইস স্থাপনকারী উদ্যোগগুলোর জন্য স্যাটেলাইট সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট আইওটি সংযোগ গড়ে প্রতি বছর ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চীনের বর্তমানে একটি পরিপক্ক উচ্চ-কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা মূলত নেভিগেশন, টেলিযোগাযোগ এবং আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়। তবে, তাদের নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কগুলো এখনো বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
গত এক বছরে চীনের দুটি রাষ্ট্রীয় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প–স্পেসসেইল (কিয়ানফান নামেও পরিচিত) এবং গুওওয়াং–তাদের প্রথম ধাপের নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে। তবে, স্পেসএক্সের স্টারলিংকের সমকক্ষ হতে তাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রদা/ডিও