বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, কর্মচাঞ্চল্যও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘তবে এই পারিবারিক পর্যায়ের অবস্থার অবনতি হয়েছে। দরিদ্রতা ও বৈষম্য বেড়েছে।’
আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মোয়াজ্জেম হোসেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সাবেক সম্পাদক এবং ইআরএফের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা ফিরেছে তার কারণ হচ্ছে, অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার পেছনে যারা ছিলেন তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। দেশ থেকে অর্থপাচার বন্ধ হয়েছে। ফলে হুন্ডি কমে গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। অন্যদিকে ব্যাংকের লুটপাট বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থার উন্নতি হয়নি, খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।’
ড. জাহিদ বলেন, ‘এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে গেছে। বিশেষকরে ডলারের দাম কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।’
এই স্থিতিশীলতার পিছনে নীতির কোন অবদান নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তবে এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। নীতিতে শৃঙ্খলা এসেছে। তবে এর অর্থ এই না যে, সরকার যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তার সবকিছুই ঠিক।’
এসময় ড. জাহিদ বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলে, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই যে সংস্কার হবে তার নিশ্চয়তা নেই। সংস্কার করার জন্য রিফর্ম ডেলিভারি ক্যাপাসিটি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের যৌথ বা সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এই চারটি পক্ষ যৌথভাবে কাজ না করলে সংস্কার কোথাও না কোথাও আটকে যাবে।’
ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে ড. জাহিদ নিজস্ব একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘ভারত এবং চীনের উপরে ট্রাম্প প্রশাসন যে হারে শুল্ক আরোপ করেছে তাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের সামনে মার্কিন বাজারে ২০৫ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের ওপরে বাংলাদেশের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি শুল্কারোপ করায় ১২০ থেকে ২০৭ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর চীনের ওপরে বেশি শুল্কারোপ করার কারণে সাত থেকে পঁচিশ মিলিয়ন ডলার বেশি রপ্তানি হতে পারে মার্কিন বাজারে।’
তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এর ফাঁদে আটকে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংক খাত, লজিস্টিক সিস্টেমের দুর্বলতা, লেবার মার্কেটের উন্নয়ন না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এর অন্যতম কারণ।’
বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে তারা আন্তরিক, কিছু ক্ষেত্রে সাহসী, কিছু ক্ষেত্রে বেচারা আর কিছু ক্ষেত্রে দিশাহারা।’
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল সেটি হয়নি। বরং বৈষম্য বেড়েছে।’
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
প্রদা/ডিও