বরফাচ্ছন্ন আর্কটিক সাগরের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কয়েক বছর ধরে সীমিত গন্তব্যভিত্তিক কনটেইনার শিপিং পরিচালিত হয়ে আসছে।
বরফাচ্ছন্ন আর্কটিক সাগরের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কয়েক বছর ধরে সীমিত গন্তব্যভিত্তিক কনটেইনার শিপিং পরিচালিত হয়ে আসছে। এবার রুটটি পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো এ পথে নিয়মিত পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছে একটি চীনা অপারেটর, যার আওতায় থাকবে একাধিক দেশের বন্দর। খবর হাই নর্থ নিউজ।
প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী মাসে চায়না-ইউরোপ আর্কটিক এক্সপ্রেস পরিষেবা চালু করবে হাইজিয়ে শিপিং কোম্পানি। এ রুটে চীনের নিংবো-ঝৌশান বন্দর যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় কনটেইনার বন্দর ফিলিক্সটোর সঙ্গে যুক্ত হবে। যাত্রাপথে আরো থাকছে নেদারল্যান্ডসের রটারডাম, জার্মানির হামবুর্গ ও পোল্যান্ডের দানস্ক বন্দর।
চীনের এ পরিষেবার সূচনাবিন্দু হলো কিংদাও বন্দর, একটি বিরতি থাকবে সাংহাই বন্দরে। আর্কটিক অংশে নিংবো থেকে ফিলিক্সটো পর্যন্ত রাশিয়ার উত্তর সাগর রুট হয়ে যাত্রার সময় ধরা হয়েছে মাত্র ১৮ দিন, যা সুয়েজ খাল হয়ে প্রচলিত রুটের অর্ধেকেরও কম সময় নেবে।
প্রাথমিকভাবে রুটটি মৌসুমভিত্তিক হবে। জুলাই-নভেম্বরে এ রুটে বরফের স্তর পাতলা থাকে, তখন পরিষেবা চালু থাকবে। হাই আই-ক্লাস বা শক্তিশালী বরফ সহনশীল কনটেইনারশিপ এলে সারা বছরই চলাচল হবে। এ রুটে প্রথম যাত্রা শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর।
চায়না-ইউরোপ আর্কটিক এক্সপ্রেস হলো প্রথম ধরনের কনটেইনার পরিষেবা, যা প্রচলিত রুটের মতো এশিয়া ও ইউরোপে একাধিক বিরতি রাখছে। এর আগে আর্কটিক হয়ে কনটেইনার শিপিং মূলত একক বন্দরভিত্তিক ছিল।
গত বছর আর্কটিক হয়ে ১৭টি কনটেইনারশিপ ভ্রমণ হয়েছিল, যার অধিকাংশই পরিচালনা করে চীনা অপারেটর নিউনিউ শিপিং লাইন। ২০২৩ সালে তারা সাতটি ভ্রমণ সম্পন্ন করে। গত বছর যা দাঁড়ায় ১৩-তে, তখন প্রায় ২০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিবহন হয়। মোট ট্রানজিট কার্গোর ৯৫ শতাংশেরই গন্তব্য ছিল রাশিয়া ও চীন।
আর্কটিক হয়ে এ পরিষেবায় প্রথম জাহাজ হিসেবে ব্যবহার হবে লো-আইস-ক্লাস কনটেইনারশিপ ইস্তানবুল ব্রিজ। ৪ হাজার ৮৯০ টিইইউ ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ জাহাজ সুয়েজ ও পানামা খালের পরিষেবা দেয়া নৌযানগুলোর তুলনায় ছোট হলেও আর্কটিকের প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্যভাবে বড়।
ইস্তানবুল ব্রিজের প্রথম যাত্রাটি ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাহাজটি ছুটির মৌসুমের পণ্য মজুদ সময়সীমা ধরতে সক্ষম হবে। কম যাত্রা সময়ের কারণে ইউরোপের প্রধান টার্মিনালে পিক সিজনে যে ভিড় হয়, তা এড়িয়ে যেতে পারবে জাহাজটি।
হাইজিয়ে বলছে, সংক্ষিপ্ত এ যাত্রা দ্রুত পণ্য সরবরাহে সহায়তা করবে, মজুদ খরচ কমাবে এবং মূলধনের টার্নওভার ত্বরান্বিত করবে। সরবরাহ দ্রুততর করতে ইউরোপে গতিশীল আনলোডিংয়ের জন্য পরিচিত বন্দর বেছে নেয়া হয়েছে।
চলতি বছর হাইজিয়ে মাত্র একটি ভ্রমণ পরিচালনা করবে। তবে কোম্পানি জানিয়েছে, প্রথম যাত্রা পুরোপুরি বুকড এবং চীনা ই-কমার্স প্লাটফর্ম ও উৎপাদকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।
হাইজিয়ের নতুন পরিষেবা রাশিয়ার কোনো বন্দর ব্যবহার করবে না। ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে আর্কটিক শিপিংয়ের একটি বড় অংশ রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
আর্কটিক হয়ে শিপিং বিস্তারে চীনের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ লক্ষ্যে তিয়ানজিন মেরিন সেন্টার মেটেরোলজিক্যাল অবজারভেটরির সঙ্গে মিলে একটি লাইভ আর্কটিক সি-আইস মনিটরিং প্রডাক্ট চালু করেছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নর্থ সি নেভিগেশন সাপোর্ট সেন্টার। এটি আর্কটিকের জলপথের বরফ পর্যবেক্ষণ করে জাহাজ চলাচলের উপযোগী জলপথ চিহ্নিত করবে এবং আর্কটিক শিপিং রুটের নিরাপত্তার জন্য আরো নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করবে।
প্রদা/ডিও