রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাত চাঙা রাখতে নিলামে ১৫০ মিলিয়ন ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক।
ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতকে চাঙা করতে গতকাল (২৮ আগস্ট) আরেকটি নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ১৪৯.৫ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল প্রাথমিকভাবে ৩০ মিলিয়ন ডলার কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নিলাম আহ্বান করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে শেষ পর্যন্ত তারা আরও বেশি ডলার কিনে নেয়, যেখানে কাট-অফ রেট ছিল ডলার প্রতি ১২১ টাকা ৭০ পয়সা।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১২১ টাকা ৫০ পয়সা কাট-অফ রেটে ১৭৬ মিলিয়ন ডলার কিনেছিল। নতুন নিলামে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাট-অফ রেট অন্তত ২০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে।
এক্সচেঞ্জ রেট স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডলারের রেট খুব কমে যাওয়া বা খুব বেড়ে যাওয়া ভালো কোনো সংকেত দেয় না।’ তিনি জানান, এতে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স-প্রেরক উভয়ই সহায়তা পাবেন এবং পাশাপাশি আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়বে।
তিনি আরও জানান, কাট-অফ রেট নির্ধারণ করা হয়েছে বুধবারের আন্তঃব্যাংক লেনদেনে গড় রেট ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমবার নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনে গত ১৩ জুলাই। ওইদিন ১২১ টাকা ৫০ পয়সা রেটে ১৭১ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। পরে ১৫ জুলাই একই দামে আরও ৩১৩ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়। নতুন এই নীতি মূলত ডলারের দামে অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে এবং বাজারে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে গৃহীত হয়েছে।
একটি বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের প্রধান জানান, গতকাল সকালে রেমিট্যান্সের বাজার শুরু হয়েছিল ১২১ টাকা ৫০ পয়সায়। তবে সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকগুলোর চাহিদা কম থাকায় রেট পড়ে যেতে থাকে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের ঘোষণা দিলে বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। দিনশেষে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের ডলার কিনেছে সর্বোচ্চ ১২১ টাকা ৬৫ পয়সায়।
একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জানান, গত এক বছর ধরে রেমিট্যান্স ও রপ্তানির জোরালো প্রবাহের কারণে ব্যাংকগুলো অনেক পুরোনো আমদানি বিল পরিশোধ করতে পেরেছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের দেনা। এসব বিল পরিশোধ হয়ে যাওয়ায় এবং আমদানির চাপ কম থাকায় এখন ডলারের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। এ কারণেই রেট পড়তে শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করছে রেট ধরে রাখতে। তাদের লক্ষ্য সম্ভবত ১২১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রেট রাখা।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট শেষে বিএপিএম৬ পদ্ধতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.১৯ বিলিয়ন ডলার।
প্রদা/ডিও