দেশে খামারের মুরগির মাংস ও ডিমে ক্রোমিয়াম, সিসা, ক্যাডমিয়াম অর্থাৎ হেভি মেটাল বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর উৎস খুঁজতে গিয়ে মুরগির খামারে খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টা ও পানিতেও মিলেছে এসব ধাতুর উপস্থিতি।
দেশে খামারের মুরগির মাংস ও ডিমে ক্রোমিয়াম, সিসা, ক্যাডমিয়াম অর্থাৎ হেভি মেটাল বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর উৎস খুঁজতে গিয়ে মুরগির খামারে খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টা ও পানিতেও মিলেছে এসব ধাতুর উপস্থিতি। এর মধ্যে লেয়ার মুরগির খামার থেকে সংগ্রহ করা ভুট্টা ও পানির চেয়ে সোনালি জাতের মুরগির খামারের ভুট্টা ও পানির নমুনায় সিসার উপস্থিতি বেশি মিলেছে। তবে এর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত নয় বরং সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে।
গতকাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কার্যালয়ে এক সেমিনারে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
‘রুট কস অ্যানালাইসিস অব হেভি মেটাল অ্যান্ড অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ ইন পোলট্রি ভ্যালু চেইন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একইদিন স্যান্ডারডাইজেশন অব ইথিলিন গ্যাস ফর ইউনিফর্ম ফ্রুট রিপেনিং ইন লো-কস্ট রিপেনিং চেম্বার’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণারও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
বিএফএসএ বলছে, গবেষণার ফলে এসব ধাতুর উপস্থিতি সহনীয় মাত্রায় রয়েছে বলা হলেও ব্যক্তির ভোগের ওপর নির্ভর করবে মাত্রাতিরিক্তের প্রভাব।
‘রুট কস অ্যানালাইসিস অব হেভি মেটাল অ্যান্ড অ্যান্টিবায়োটিক রেসিডিউ ইন পোলট্রি ভ্যালু চেইন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি করেন বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর মোহাম্মদ এ সামাদ। তার গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ভুট্টার নমুনার ১৫ শতাংশে ক্রোমিয়াম, ২০ শতাংশে সিসা ও ৫ শতাংশে ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে। তার মধ্যে সোনালি মুরগির খামারের ভুট্টার নমুনার ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে সিসা ও ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশে ক্যাডমিয়াম মিলেছে। তবে ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়নি। লেয়ার মুরগির খামারের ভুট্টার নমুনার ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশে ক্রোমিয়াম, ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশে সিসা মিলেছে। তবে ক্যাডমিয়াম পাওয়া যায়নি।
ভূগর্ভস্থ পানির নমুনার ৩১ শতাংশে ক্রোমিয়াম, ৬৩ শতাংশে সিসা ও ৫৪ শতাংশে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে। তার মধ্যে ব্রয়লার মুরগির খামারে পানির নমুনার ২০ শতাংশে ক্রোমিয়াম, ৬০ শতাংশে সিসা ও ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে। সোনালি মুরগির খামারের পানির নমুনার ৩০ শতাংশে ক্রোমিয়াম, ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে সিসা ও ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে। লেয়ার মুরগির খামারের পানির নমুনার ৪২ দশমিক ৯ শতাংশে ক্রোমিয়াম, ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে সিসা ও ৬০ শতাংশে ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি মিলেছে। প্রতি লিটার পানির প্রতি মিলিগ্রামে সিসার উপস্থিতি মিলেছে দশমিক শূন্য ২; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহনীয় মাত্রা দশমিক শূন্য শূন্য ৩।
মুরগির মাংসের প্রতি কেজির প্রতি মিলিগ্রামে সিসার উপস্থিতি মিলেছে দশমিক ৩, যার আন্তর্জাতিক সহনীয় মাত্রা দশমিক ১। এছাড়া ডিম ও মুরগির মাংসে ক্রোমিয়াম ও কেডমিয়ামের উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।
বিএলআরআইয়ের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর মোহাম্মদ এ সামাদ বলেন, ‘৮৪ শতাংশ মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে জানেন, তবে ৮০ শতাংশ মানুষ পশু ও পাখির খাদ্যে এটির ব্যবহারের আইন সম্পর্কে জানেন না। ৬৫ শতাংশ খামারি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিতে আগ্রহী নন। ডিম ও ব্রয়লার মাংসে সিপ্রোফ্লক্সাসিন বেশি ব্যবহার করা হয়। মধ্যম ও ছোট খামারে বেশি পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। বগুড়া ও জয়পুরহাটে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেশি। সোনালি মুরগি ৯০ দিন সময় লাগে, তাই সেসব খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বেশি।
প্রদা/ডিও